Author: sadekmahmud

ধর্ম হচ্ছে নিজেকে শাসন করার জন্যে, অন্যকে নয়। যিনি ধর্মকে সঠিক ভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করে জীবন যাপন করেন তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। আর যিনি ধর্মকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বা অন্যকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম পালনে বাধ্য করেন তিনি কখনোই সহি ধার্মিক নন বরং তিনি ধর্মের মুখোশের আড়ালে আপন স্বার্থ হাসিলের একটি অসত চরিত্র লালন করেন। বাংলাদেশের মতো একটি বহুজাতিক মানুষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা ও জাতীয় নিয়মনীতির সাথে কোনো স্পেসিফিক ধর্মের সম্পৃক্ততা থাকাটা নৈতিক নয়। থাকলে তা নতুন এক ফ্যাসিবাদের জন্ম দিবে যা নিজেদের ধর্মীয় মতাদর্শ অন্য সকলের উপর চাপিয়ে দিয়ে সকলের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করবে।…

Read More

  ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়, প্রশ্ন মানেই অবমাননা নয়।  মানুষ জন্মগতভাবে চিন্তাশীল। আমরা সকলেই জানতে চাই, বুঝতে চাই, ভাবতে চাই। আমরা কেবল মুখস্থ করে চলার জন্য জন্মাইনি। আমরা প্রশ্ন করি, দ্বিমত পোষণ করি, কারণ আমরা জ্ঞান অর্জন করতে চাই। আর এই জানার পথের প্রথম ধাপই হলো প্রশ্ন করা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা করা । মত প্রকাশের অধিকার মানে ধর্ম অবমাননা নয়। আজকাল আমাদের দেশে একটা ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে কেউ ধর্ম, সমাজ, বা সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুললেই আমরা তাকে ‘ধর্ম অবমাননা’,  ‘অবিশ্বাসী’ বা নাস্তিক বলি। যেন ভিন্নভাবে ভাবার অধিকার কারও নেই! অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার,…

Read More

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশীয় সমাজব্যবস্থায় নারীকে এখনও একটি পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নয়, বরং পুরুষের অধীনস্থ ঘৃহিণী, কখনো ভোগ্যপণ্য কিংবা ঘরের কাজের লোক হিসেবেই অধিকাংশ সময় বিবেচনা করা হয়। যদিও সমাজে নারীর অবস্থান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে, তথাপি সমাজের গভীরে এখনো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা প্রবলভাবে বিদ্যমান। এই মানসিকতা নারীকে পুরুষের তুলনায় সবসময় নিচে রাখে, সীমাবদ্ধ করে তার চলাফেরা, চিন্তা ও সুযোগের পরিধিকে। আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো মনে করা হয়—নারীর প্রধান কাজ হলো ঘরের কাজ করা, স্বামী-সন্তানের দেখাশোনা করা, এবং পরিবারের সেবায় নিয়োজিত থাকা। যদিও নারী আজ চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, পুলিশ, সৈনিক, রাজনীতিবিদ এমনকি মহাকাশচারীও হচ্ছে, তবুও সমাজের এক বড় অংশ মনে…

Read More

ইসলামে গনতন্ত্র বিলকুল হারাম, কিন্তু ইসলামের প্রতিনিধি হইয়ে গণতন্ত্রের নির্বাচনে আসতে চাইছে যারা এরা কারা?  মূর্তি পূজা ইসলামে শিরক, শিরক মানে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, যা সর্বোচ্চ লেবেলের গোনাহ্। কিন্তু ইসলামের ধ্বজাধারী হয়ে পূর্ণাঙ্গ ঈমান নিয়ে মূর্তি পূজায় পাহারা ও স্বেচ্ছা সেবা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে চাইছে এরা কারা? তাদের উদ্দেশ্য কি? এরা ইসলাম ধর্ম লালন পালন করতে চাইছে নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতার রস চাঁটতে চাইছে? বৈষম্যহীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ভিন্নধর্মীদের ধর্ম পালন করতে ইসলামী সংগঠনের নেতা, মাদ্রাসার ছাত্র বা ঈমানদার মুসলমানদের কাছে কেনো নিরাপত্তা ভিক্ষা নিতে হবে, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি?  আর এইযে বিভিন্ন ইসলামিক বক্তাগণ তাদের বক্তৃতায় বলতেছেন…

Read More

সমকামীদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক মূলত অধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্নকে ঘিরে নয়; বরং রাষ্ট্র নাগরিকত্বকে শর্তসাপেক্ষ করবে কি না, সেই মৌলিক রাষ্ট্রবোধের প্রশ্নকে সামনে আনে। আধুনিক রাষ্ট্রে অধিকার জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। যৌন পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা জীবনধারার কারণে কোনো নাগরিকের অধিকার বাতিল হয় না। অধিকার কোনো অনুমোদননির্ভর সুবিধা নয়; এটি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বয়ানে এমন ভাষা ক্রমাগত ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে সমকামী মানুষকে “থাকার অযোগ্য” বা “দেশছাড়া করার যোগ্য” হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এই বক্তব্যগুলোকে প্রায়ই মতামত হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এগুলো নাগরিকত্ব হরণ ও সহিংসতার সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি ডিহিউম্যানাইজেশনের…

Read More

আমাদের সমাজে এই ব্যাপারটি কখনোই সামনে আসে না। কারণ এখানে স্বামী তার বউকে যখন খুশি তখন যেইভাবে খুশি সেইভাবে যেকোনো মুহূর্তে তার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তার সাথে ইন্টারকোর্স করার জন্যে সামাজিক ভাবে বিয়ের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের আইনেও এখনো ধর্ষনের সংজ্ঞাটি পরিষ্কার বলে আমার মনে হয়নি, এখানে ছেলে এবং মেয়ের দুজনের সম্মতিতে সঙ্গম করলেও যদি কোনো কারণে তাদের বিয়ে না হয় তবে এখানে নারীর ইচ্ছেমত পুরুষের বিরদ্ধে অ্যাকশান নেওয়া ধর্ষনের আইনের আওতায় আসে, আবার কোনো স্বামী যখন তার বউকে তার অনিচ্ছায় ইন্টারকোর্স বা ধর্ষণ করেন সেটা আবার আমাদের আইন স্বাভাবিক চোখেই দেখে। অর্থাৎ আমাদের দেশের আইনে বৈবাহিক…

Read More

জাতি হিসেবে আমরা কিছুটা চিন্তাগ্রস্থ হলেও এখনো যথেষ্ট চিন্তাশীল নই আমরা। আমরা একটু চিন্তায় পরে গেলেই হাপিয়ে যায়, আমাদের কাছে নিয়মিত চিন্তা ভাবনা চর্চা যেন নিয়ম করে বিষের পাত্রে চুমুক, যেটা মোটেও কাম্য নয়, চিন্তাচর্চা ব্যতিরেকে কোনো জাতি কখনোই সভ্যতার দিকে অগ্রসর হতে পারে না। চিন্তাশীলতা বিস্তারের জন্য মুক্তচিন্তা তার পূর্বশর্ত। মুক্তবুদ্ধির চর্চা যে সমাজে নেই, সেই সমাজ স্থবির হতে বাধ্য। গুহার জীবন থেকে শুরু করে এই আধুনিক সভ্যতা সবই সম্ভব হয়েছে মুক্ত চিন্তার চর্চার মাধ্যমে। পৃথিবীর প্রাচীনকাল থেকে যখন মানুষের শাসন এবং সমাজ ব্যবস্থার শুরু হয়েছে তখন থেকেই মুক্তবুদ্ধির চর্চা শুরু হয়েছে। পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য সব পরিবর্তিত সমাজ…

Read More

আমি বহুল প্রচলিত কোনো ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং তাদের দৈব শক্তি ও আমি বহুল প্রচলিত কোনো ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং তাদের দৈব শক্তি ও তাদের আচার বিচারে এক বিন্দুও বিশ্বাস কিংবা ভরসা করি না। কিন্তু এটা খুব ভালো ভাবেই বিশ্বাস করি যে, *প্রকৃতি কারো পাপের ভার নিজের কাঁদে নেয় না*। প্রত্যেকেই তার কৃত কর্মের ফলাফল নিজে ভোগ করতে বাধ্য। আপনি হয়তো আজকে কোনো একটা অন্যায় করে ভালো বোধ করতেছেন, ভাবছেন ভালই ত আছি। বাহ্যিকভাবে এর কোনো খারাপ ইফেক্ট দেখতে পাচ্ছেন না।  কিন্তু এই কর্মের ফিডব্যাক সাথে সাথেই আপনার মস্তিষ্কে সেট হয়ে গিয়েছে। আপনার জীবনের সাথে যা কিছু ঘটে এবং ঘটবে সকল কিছুই…

Read More

আমি বহুল প্রচলিত কোনো ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং তাদের দৈব শক্তি ও তাদের আচার বিচারে এক বিন্দুও বিশ্বাস কিংবা ভরসা করি না। কিন্তু এটা খুব ভালো ভাবেই বিশ্বাস করি যে, *প্রকৃতি কারো পাপের ভার নিজের কাঁদে নেয় না*। প্রত্যেকেই তার কৃত কর্মের ফলাফল নিজে ভোগ করতে বাধ্য। আপনি হয়তো আজকে কোনো একটা অন্যায় করে ভালো বোধ করতেছেন, ভাবছেন ভালই ত আছি। বাহ্যিকভাবে এর কোনো খারাপ ইফেক্ট দেখতে পাচ্ছেন না।  কিন্তু এই কর্মের ফিডব্যাক সাথে সাথেই আপনার মস্তিষ্কে সেট হয়ে গিয়েছে। আপনার জীবনের সাথে যা কিছু ঘটে এবং ঘটবে সকল কিছুই আপনার মস্তিষ্কের ডেটার উপর নির্ভর করে ঘটে। এই ডেটাব্যাজ যত কুলষিত…

Read More

পৃথীবির প্রায় সকল প্রাণীই মাতৃতান্ত্রিক হলেও মানুষ কেনো পুরুষতান্ত্রিক? পৃথিবীতে যুগযুগ ধরে শক্তভাবে টিকে থাকা যত তন্ত্র রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পুরুষতন্ত্র। পৃথিবীতে আজকের এই পুরুষতন্ত্র এমনিতেই আসেনি, এর পিছনে রয়েছে কারন। যেখানে পুরুষতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বের ইতিহাসটা প্রায় ৮০% পুরুষদের জন্যেই যথেষ্ট মর্মান্তিক ছিল! সামগ্রিকভাবে নারী এবং পুরুষদের বাকি সব জায়গায় এক লাইনে এক পাল্লায় এক অবস্থানে সমান তালে সম অধিকার সম মর্যাদায় বা যেকোনো সম অবস্থানে নিয়ে আসতে পারলেও যেখানে সমতা নিশ্চিত করতে পারবেন না তা হলো যৌনতায়। প্রজনন এবং যৌনতায় নারী এবং পুরুষের ইচ্ছা আখাঙ্খা চাহিদা বা আগ্রহ কখনোই এক ছিল না, এবং এখনো যথেষ্ট ভাবেই নেই।…

Read More