আমাদের সমাজে এই ব্যাপারটি কখনোই সামনে আসে না। কারণ এখানে স্বামী তার বউকে যখন খুশি তখন যেইভাবে খুশি সেইভাবে যেকোনো মুহূর্তে তার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তার সাথে ইন্টারকোর্স করার জন্যে সামাজিক ভাবে বিয়ের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স পেয়ে থাকে।
বাংলাদেশের আইনেও এখনো ধর্ষনের সংজ্ঞাটি পরিষ্কার বলে আমার মনে হয়নি, এখানে ছেলে এবং মেয়ের দুজনের সম্মতিতে সঙ্গম করলেও যদি কোনো কারণে তাদের বিয়ে না হয় তবে এখানে নারীর ইচ্ছেমত পুরুষের বিরদ্ধে অ্যাকশান নেওয়া ধর্ষনের আইনের আওতায় আসে, আবার কোনো স্বামী যখন তার বউকে তার অনিচ্ছায় ইন্টারকোর্স বা ধর্ষণ করেন সেটা আবার আমাদের আইন স্বাভাবিক চোখেই দেখে। অর্থাৎ আমাদের দেশের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যাপারই নেই। কিন্তু অনেক উন্নত দেশেই এটা রোধের জন্যে সুশিক্ষার বিস্তার এবং সুষ্ঠ আইন রয়েছে।
প্রকৃত ভাবে ধর্ষণ এর ঘটনা ঘটে কেবল কারো সম্মতি ছাড়া কারো অনিচ্ছায় কারো সাথে ইন্টারকোর্স করতে চাওয়া বা তাঁকে যৌন হেনস্তথা করা । এখানে কোনো মেয়ের দ্বারাও কোনো ছেলে ধর্ষিত হতে পারে।
– এখানে মেইন ফ্যাক্ট হচ্ছে সম্মতি এবং ইচ্ছা,
এই দুইটা বিষয় যখন অনুপস্থিত থাকবে, তখনই সেটা ধর্ষণ। হোক সেটা স্বামী স্ত্রী, প্রেমিক প্রেমিকা, বা অপরিচিত কোনো নারী পুরুষের মধ্যে।
ধর্ষণ যা, তা সবক্ষেত্রেই, সব খানেই ধর্ষণ।
আমাদের সমাজে এখনও প্রচলিত আছে যে, বিবাহ করলে আর ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যাপার নাই, অর্থাৎ বউকে যখন খুশি তখন লা*গানো যাবে।
সমাজ এখনও মানতে চায় না যে বিবাহ করলেই কেও কারো সম্পত্তি হইয়ে যায় না, ভোগের বস্তু হইয়ে যায় না, কেও নিজেকে বিক্রি করে না, কেও কারো ব্যক্তি স্বাধীনতা বিলিয়ে দেয় না।
আমাদের সমাজকে জানতে হবে, এখানে বিয়ে করলেও উভয়ের ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে, সম্মতির প্রয়োজন আছে, ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রয়োজনীয়তা আছে।
____
বৈবাহিক ধর্ষণ আমাদের দেশে যেইভাবে ঘটে:
এখানে সব থেকে সহজ ভাবে যদি বুঝতে চান, তাহলে একটি কমবয়সী মেয়ের একজন বয়স্ক পুরুষের সাথে বিয়ের ব্যাপারটা দেখলেই বুঝা যায় সহজে।
কিছুদিন আগেও একটি পত্রিকার নিউজ দেখেছিলাম যেখানে ১৩ বছরের একটি নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব এক পুরুষের সাথে।
এইসব বিয়ে কেনো হয় সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সেইদিকে এখন যাচ্ছি না। কিন্তু ভাবুন ত, এই অল্প বয়সী নাবালিকা মেয়ের সাথে কি এই বয়স্ক লোকের সেক্স্যুয়াল ইন্টারকোর্স কোনোভাবে যায়? মানে শিশুটির কি ইন্টারকোর্সের শারীরিক প্রস্তুতি বা হিতাহিত জ্ঞান হয়েছে, যদি না হয় তাহলে উক্ত বয়স্ক লোকটি তার সাথে যা কিছু করছে সবই বৈবাহিক ধর্ষণ। অথচ এটাকেই আমার সমাজ দেখছে একটি হালাল বাসর কিংবা স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন হিসেবে।
ঘটনা ১.
আমার এক ছোটবেলার বন্ধু ছিল, সে এখন সৌদী প্রবাসী। বছরখানেক আগে সৌদি থেকে ছুটিতে এসেই বিয়ে করেন। তার বয়স ২৬-২৮ এমন হবে, বিয়ে করেন এক ক্লাস নাইনে পরা ১৬ বছর বয়সী মেয়ে যার মাত্র ইন্টারকোর্স করার ব্যাপারগুলি গ্রোথ হতে শুরু করেছে। আমার সহপাঠী বন্ধুটির যথেষ্ট সেক্স্যুয়াল ইন্টারকোর্সের সঠিক জ্ঞান ছিল না। এবং সে মাঝে মধ্যে পশ্চিমা পর্ণোগ্রাফি দেখতো, যেখানে সে দেখত যে দুইজন মানুষ প্রায় আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘণ্টা খানেক ধরে পেনিট্রেশন করে ইন্টারকোর্স করে। এইসব দেখে সে নিজের সেক্স্যুয়াল লাইফ নিয়ে হতাশায় ভুগতো। এবং পশ্চিমা পর্ণগ্রাফি দেখতে দেখতে সে ভাবত যে তার বোধয় যথেষ্ট সময় ইন্টারকোর্স করার সক্ষমতা নাই। এইসব হতাশা নিয়েই সে বিয়ে করলো।
কিছুদিন আগে তার সাথে গল্প করতে করতে গল্পের ছলে সে বলে ফেললো যে বাসর রাতে সে তার বউয়ের সাথে টানা কয়েক ঘণ্টা করে পেনিট্রেশন করেছে। এবং তার বউ তাকে এইসব করতে না বললেও, সে এটা করে গেছে বারবার এবং ততক্ষণ যতক্ষণ না তার স্ত্রী পরিপূর্ণ নিস্তেজ হয়েছে।
আমি যখন জানতে চাইলাম যে এটা কিভাবে সম্ভব, তখন সে বলেদিয়েছিল যে ট্যাবলেট ভায়াগ্রা এবং নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে সে নাকি এর সাথে তার পশ্চাৎদেশের মাংসপিন্ডে যৌণ উত্তেজক ইনজেকশনও নিয়েছিলো। এইভাবেই সে বাসর রাতে তার সদ্য বিবাহিত বউয়ের যৌনি পথে রক্তপাত ঘটান। এবং বউকে হার মানানোর এই গল্প মানুষের সাথে বলে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করেন।
ঘটনা ২.
আমার এক বান্ধবীর জীবনের বাস্তব ঘটনা, তার বিয়ে হয় এক ব্যবসায়ীর সাথে, যার আগের আরেক বউ ছিলো যে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গিয়েছিলো। এই ব্যক্তি তার সাথে প্রায় সময়ই তার অনিচ্ছায় ইন্টারকোর্স করতো, তবে তার ইন্টারকোর্স গুলো বেশিরভাগ সময়ই ছিলো গরু-ছাগলের ইন্টারকোর্সের মত। তার ইন্টারকোর্স ছিলো কোনো রকম তার পায়জামার ফিতা টা খুলেই দুটি ঠ্যাং ফাক করে ঢুকিয়ে দিয়ে তার পর কয়েক সেকেন্ডেই বীর্যপাত ঘটিয়ে থেমে যাওয়ার মত, কখনো যখন বান্ধুবি তারকাছে একাদারে একটু লম্বা সময়ের সেক্স্যুয়াল প্লেজার চায়তো, তখন সে তা করতো না, তাকে উল্টা বেশ্যা, খাঙ্কি বলে গালাগাল করতো। এমনও সে বলেছিল যে সেই লোক নাকি মাঝে মধ্যে তাকে রাতে ঘুমের মধ্যেই ইন্টারকোর্স করতো সে তা ঘুমের কারণে ট্যারই পেত না। এবং সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর বুঝত যে তার স্বামী এইসব করেছে। তার স্বামী সবসময় তার স্বামীর ইচ্ছাতেই এইসব করতো, এবং সে যখন করতে চাইতো তখন তার স্বামী করতে চাইতো না। তার ইচ্ছায় তার স্বামী এইসব করতো না, এবং কখনোই তার ইন্টারকোর্সের আগ্রহ এবং তৃপ্তির কথা তার স্বামীর মাথায় ধরত না। এইভাবে সে এই লোকের সাথে বছর খানেক ধর্ষিত হয়ে নিপীড়িত হয়ে সংসার করে অবশেষে ডিভোর্স দিয়ে ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়।
ঘটনা ৩.
কয়েকদিন আগে একজনের এমন নতুন বিবাহের ইন্টারকোর্সের গল্প শুনলাম। সে তার বন্ধুদের সাথে খুব মজা করে বলতেছিল যে বাসর রাতে নাকি সে তার বউকে পরপর ১০ বার ইন্টারকোর্স করছে। এবং বউ তাকে তৃতীয়বারই এইসব করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু সে বীরত্ব দেখিয়ে এমন কাজ করছে বলে জানায়। ভাবা যায়? কতুটুকু অসুস্থ হলে একজন মানুষ একরাতে তার বউয়ের সাথে ১০ বার ইন্টারকোর্স করতে পারে? আসলে এখানে মেয়েটির তার প্রথম বাসরে এই অমানসিক যৌণ নির্যাতন মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথই তার ছিলো না। এইটাই যে তার সমাজের নিয়ম, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার পারিবারিক শিক্ষা যে স্বামী যখন চাইবে, চাহিবা মাত্রই খুলে দিতে হবে।
আবার এমন ঘটনাও আমাদের সমাজে ঘটে যেখানে মেয়েটি কোনো একটা কারণে আজ মর্মাহত, বিষণ্ণ, চিন্তিত, বা অসুস্থ। কিন্তু তার উত্তেজিত স্বামী এইসবের দিকে খেয়াল না করে বউয়ের সাথে ইন্টারকোর্সে লেগে যায়। মেয়েটি তার স্বামীর খেদমতের দিকে তাকিয়ে খুলে দিতে বাধ্য হয়। এইসব কোনোভাবেই সুস্থ সেক্স হতে পারে না, বরং পরিষ্কারভাবেই ধর্ষণ।
এই ব্যাপারটা পুরুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে, যেমন কোনো পুরুষ সারাদিন কাজ করে খুব ক্লান্ত শরীর কিন্তু বউ তাকে বার বার ইন্টারকোর্সের জন্যে বিরক্ত করতেছে। তবে এটা আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে খুবই কম। এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বামীর ইচ্ছায় ইন্টারকোর্স শুরু এবং শেষ হয়। তবে কোথাও নারিতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে এটারও মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।
বৈবাহিক ধর্ষনের এমনসব ঘটনা এবং ভিন্ন আঙ্গিকে এমন আরও ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহই ঘটে যা আমরা সামাজিক কুসংস্কারের অন্ধত্বের রঙিন চশমা পরিধান করে আছি বলেই দেখতে পায় না।
__
কিছুদিন আগে ভারতের কেরল হাইকোর্ট বৈবাহিক ধর্ষনের কথা উল্লেখ করে একটি রায় দিয়েছেন যেখানে বৈবাহিক ধর্ষণকে ডিভোর্সের একটি কারণও বলা হয়েছে। এটা নি:সন্ধেহে উপমহাদেশের জন্যে একটি যুগুপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সেই রাজ্যের মানুষ জানবে যে, বিয়ের পরও ধর্ষণ হয়। এবং আগামীতে হয়তো এমন আইনের সৃষ্টি ও প্রচার পুরু ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ উপমহাদেশের আরো কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে ছড়িয়ে যাবে ।
তবে শুধু আইন করেই বৈবাহিক ধর্ষণ বা যেকোনো ধর্ষণই বন্ধ করা যাবে এমন ধারণা করাও ভুল, এর জন্যে প্রয়োজন ধর্ষণ এবং বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কে সঠিক সংজ্ঞা জানা এবং সামাজিক ভাবে এইসবের নৈতিক শিক্ষার আরো প্রচার এবং প্রসার ঘটানো।

