কয়েকদিন পরপরই দেখি সোস্যাল মিডিয়ায় কেউ লিখছে, “চলে যাচ্ছি”, কেউ বলছে, “বিদায় বাংলাদেশ।” স্ট্যাটাসগুলো এমন, যেন শোকবার্তা। অথচ সবাই জানে, এটা শোক নয়; এটা মুক্তির খবর।
সময় বদলায়, মানুষও বদলায়, এদেশের রাজনীতি বদলায় না। । একসময় যারা বিদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত, আজ তারাই পরিবারসহ বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টায় রত।
ক্ষমতা, টাকা, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তা; সব কিছুর ঠিকানা এখন বিদেশ।দেশে তাহলে কী থাকে? থাকে মব জাস্টিস, বলাৎকার, মোল্লাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে অশান্তি আর ঘৃণার প্রচার, ধর্মের নামে রাজনীতি, নৈতিকতার নামে সহিংসতা, আর সংস্কার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে মানুষের জান মালের অনিশ্চয়তা।
সবথেকে বড় হিপক্রিসি হচ্ছে যে, বিদেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি নিজের জন্য বেছে নেয় ধর্ম নিরপেক্ষ ইউরোপ-আমেরিকার নিরাপদ, মানবিক, শান্তিময় জীবন। কিন্তু দেশের মানুষের জন্য তারা চায় কট্টর ধর্মীয় শাসন। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ তারা দেখে উন্নত রাষ্ট্রে, আর দেশের সাধারন মানুষের সন্তানদের জন্য কল্পনা করে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, পেলেইস্টেইন বা ইয়েমেনের মতো বাস্তবতা।অমুসলিম রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, সেখানে বসবাস করে তারা বাংলাদেশীদেরকে ইসলামী রাষ্ট্রের নসিহত দেয়। এটা আমাদের এই সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট।এই সঙ্কট থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের যে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থার দরকার ছিলো সেটি আমরা রাষ্ট্রীয় ভাবে কোনোদিনই পাইনি।যার ফলে বিদেশে বসবাস করা পিনাকী, ইলিয়াসের মতো ভন্ডরা যখন নিজেদের জীবনের জন্য ইউরোপ, আমেরিকা ও অমুসলিম দেশে বেছে নেয় কিন্তু দেশের মানুষের জন্য তৈরি করত চায় কাবুল, তেহরান, গাঁজার মতো একটি অনিশ্চয়তার শহর।তখন আমরা সেটা ধরতে পারি না।দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাও আজ অমুসলিমদের দেশে শান্তিতে, নিরাপদে বসবাস করে আরাম আয়েশে দিন কাটায়, কিন্তু বাংলাদেশকে আফগানিস্তান পাকিস্তান সিরিয়া লিভিয়া কিংবা প্যালেস্টাইন বানাইতে চায়। তারা বাংলাদেশের মানুষকে বুঝাইতে চায় যে কট্টর ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে, কিন্তু তারা দিনশেষে ইরাক সিরিয়া লিবিয়া কিংবা প্যালেস্টাইনের মত কোন মুসলিম দেশে বসবাস না করে তারা বসবাস করে ইউরোপে আমেরিকার মত অমুসলিমদের দেশে। এই দ্বিচারিতাই আজ আমাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বের সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন, এই চিহ্ন আমরা মুছবো কিভাবে?

